ওমরাহ ও হজের মধ্যেকার পার্থক্য

ওমরাহ ও হজের পার্থক্য, নিয়ম ও ইসলামিক গুরুত্বসহ বিস্তারিত বাংলা গাইড। মক্কা যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এখানে পড়ুন

Aug 9, 2025 - 09:52
 0
ওমরাহ ও হজের মধ্যেকার পার্থক্য

ওমরাহ ও হজের গুরুত্ব

ইসলাম ধর্মে হজওমরাহ উভয়ই মহান ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ মাধ্যম। এগুলোকে বলা হয় ইসলামিক পিলগ্রিমেজ বা মক্কা যাত্রা। হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি, আর ওমরাহ সুন্নত মুআক্কাদা ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। উভয়ই মুসলিমদের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর রহমত লাভের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


ওমরাহ কি এবং কীভাবে পালন করা হয়

ওমরাহ হল মক্কায় কাবা শরীফ ঘিরে নির্দিষ্ট নিয়মে পালন করা একটি ইবাদত, যা সারা বছর যেকোনো সময় করা যায়।
ওমরাহ পালনের ধাপসমূহ:

  1. ইহরাম বাঁধা – নির্দিষ্ট মিকাত থেকে ইহরামের নিয়ত করা।

  2. তাওয়াফ – কাবা শরীফ সাতবার প্রদক্ষিণ করা।

  3. সাঈ – সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার যাতায়াত করা।

  4. হালক বা কসর – চুল কাটা বা ছোট করা।

ওমরাহর সময় পশু কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, এবং এটি যেকোনো সময় সম্পন্ন করা যায়।


হজ কি এবং কীভাবে পালন করা হয়

হজ হল ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ, যা প্রতিবছর জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনে মক্কা ও আশেপাশের পবিত্র স্থানে সম্পন্ন হয়।
হজ পালনের ধাপসমূহ:

  1. ইহরাম বাঁধা – নিয়ত করে মিকাত থেকে ইহরামে প্রবেশ।

  2. আরাফাত ময়দানে অবস্থান – ৯ জিলহজ তারিখে আরাফাতে দাঁড়ানো হজের মূল স্তম্ভ।

  3. মুযদালিফায় রাতযাপন – আরাফাত থেকে মুযদালিফায় গিয়ে রাত কাটানো।

  4. শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ – জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করা।

  5. কোরবানি করা – পশু কোরবানি।

  6. তাওয়াফুল ইফাদা ও সাঈ – কাবা ঘিরে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ।

  7. বিদায়ী তাওয়াফ – মক্কা ত্যাগের আগে শেষ তাওয়াফ।


ওমরাহ ও হজের পার্থক্য

বিষয় ওমরাহ হজ
সময় সারা বছর যেকোনো সময় শুধুমাত্র জিলহজ মাসে
ফরজ/সুন্নত সুন্নত মুআক্কাদা ফরজ (যাদের সামর্থ্য আছে)
সময়কাল কয়েক ঘন্টা থেকে ১ দিন প্রায় ৫-৬ দিন
কোরবানি বাধ্যতামূলক নয় বাধ্যতামূলক
ধাপের সংখ্যা তুলনামূলক কম বেশি ও জটিল
মূল উদ্দেশ্য নফল ইবাদত ও আত্মশুদ্ধি ফরজ ইবাদত ও পূর্ণ আনুগত্য

গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্তাদি

  • মুসলিম হওয়া।

  • বালেগ ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া।

  • অর্থনৈতিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা।

  • নারীদের ক্ষেত্রে মাহরামের সাথে থাকা (ইসলামিক বিধান অনুযায়ী)।

  • ইহরামের নিয়ম মানা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা।


ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব

কুরআন ও হাদিসে হজের গুরুত্ব অসংখ্যবার বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করল এবং কোন অসৎ কাজ করল না, সে হজ থেকে পাপমুক্ত হয়ে ফিরবে যেমন সে জন্মের দিন ছিল।"
ওমরাহ সম্পর্কেও তিনি বলেছেন যে, দুটি ওমরাহর মধ্যবর্তী সময়ে করা গুনাহ ক্ষমা করা হয়, এবং হজ আল্লাহর সন্তুষ্টির একটি বড় মাধ্যম।


সমাপ্তি: পাঠকদের জন্য উপদেশ

হজ ও ওমরাহ মুসলিম জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। যারা সামর্থ্যবান, তারা যেন ফরজ হজ আদায়ে দেরি না করেন। একই সাথে, সুযোগ পেলে ওমরাহও আদায় করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, এই ইবাদতের মাধ্যমে শুধু মক্কা যাত্রা নয়, বরং আল্লাহর পথে আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার নবায়ন হয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0