ইসলামী জীবনব্যবস্থার মৌলিক আদর্শ, লক্ষ্য ও প্রতিষ্ঠা পদ্ধতি
ইসলাম প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ কোনটি? এই আর্টিকেলে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ওপর ভিত্তি করে নবুয়্যতের পদ্ধতি এবং প্রচলিত ভুল কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
১. মৌলিক আদর্শ: আল্লাহর সার্বভৌমত্ব (তাওহীদ আর-রুবুবিয়্যাত)
ইসলাম শুধুমাত্র কিছু প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং এটি মানবজীবনের ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়—সকল দিক পরিচালনার জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ও কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা।
এই জীবনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ আর-রুবুবিয়্যাত, অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব, আইন প্রণয়নের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এবং শাসন কর্তৃত্বের একমাত্র মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন; কোনো মানুষ বা মানবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়। এই বিশ্বাসই হলো ঈমানের মূল ভিত্তি।
-
ঈমানের ঘোষণা: এই আদর্শের ঘোষণা হলো "রাব্বুনাল্লাহ" (আল্লাহই আমাদের একমাত্র রব বা প্রতিপালক ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক)। এর প্রায়োগিক রূপ হলো "আল্লাহু আকবার" (আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ), যা দ্বারা স্বীকার করা হয় যে, সকল ক্ষমতার ঊর্ধ্বে একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা।
-
বিপরীত ধারণা (জাহেলিয়াত): মানব রচিত যেকোনো ব্যবস্থা, যেখানে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মানুষের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা হয়, তাকে জাহেলিয়াত বলা হয়। এটি আল্লাহর সার্বভৌমত্বে অংশীদারিত্ব বা শিরক স্থাপন করা, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অপরাধ। মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে জীবনযাপন করলে মানুষের সকল ইবাদত (নামাজ, রোজা ইত্যাদি) আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারানো।
২. ইসলামের মূল আহ্বান ও অঙ্গীকার
ঈমানের এই মৌলিক ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে মানুষকে তিনটি ধাপে ইসলামের পথে আহ্বান জানানো হয়:
ক) আল্লাহর দাসত্বের অঙ্গীকার (তাওহীদ আল-উলুহিয়্যাত):
যেহেতু আল্লাহই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, সেহেতু দাসত্ব (عبادة), আইনের আনুগত্য এবং উপাসনাও কেবল তাঁরই জন্য নির্ধারিত। অন্য কারও বা কোনো মানবসৃষ্ট ব্যবস্থার আনুগত্য করা যাবে না।
-
অঙ্গীকার: "আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" – আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ (আনুগত্য ও উপাসনার যোগ্য সত্তা) নেই।
খ) রাসূল (ﷺ)-এর শর্তহীন আনুগত্যের অঙ্গীকার:
আল্লাহর বিধান পৃথিবীতে বাস্তবায়ন করার জন্য একমাত্র আদর্শ নেতা হলেন হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)। তাঁর দেখানো পথ ও পদ্ধতির শর্তহীন অনুসরণ ও অনুকরণ করা অপরিহার্য।
-
অঙ্গীকার: "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ" – আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল (শর্তহীন আনুগত্য পাওয়ার অধিকারী একমাত্র নেতা)।
এই তিনটি ঘোষণা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলামে প্রবেশ করে এবং তার জীবন আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনার শপথ গ্রহণ করে।
৩. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এই জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য দ্বিমুখী:
১. দুনিয়ার কল্যাণ: পৃথিবীতে মানুষের তৈরি সকল প্রকার ظلم, শোষণ, অবিচার, দুর্নীতি, অরাজকতা ও অশান্তি দূর করে একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সকল মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
২. আখিরাতে মুক্তি: পরকালে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভ করা।
মূল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ বিনির্মাণ করা যেখানে আল্লাহর আইন ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
৪. সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র সঠিক পদ্ধতি (নবুয়্যতের পদ্ধতি)
ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আবেগ, শক্তিপ্রয়োগ বা মানব রচিত কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না। বরং এর জন্য একমাত্র অনুসরণীয় পদ্ধতি হলো আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ ও পর্যায়ক্রমিক পথ। এই পদ্ধতিটি দুটি প্রধান ধাপে বিভক্ত:
প্রথম ধাপ (মক্কী জীবন):
-
ঈমানের দাওয়াত: মানুষকে শিরক ও জাহেলিয়াত থেকে বের করে এনে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমানের দাওয়াত দেওয়া।
-
চরিত্র গঠন: দাওয়াত গ্রহণকারীদের আল-কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ঈমানকে মজবুত করা এবং নিষ্কলুষ চরিত্র গঠন করা।
-
ধৈর্য ও ক্ষমা: বিরোধী শক্তির সকল প্রকার জুলুম, নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় শক্তিপ্রয়োগ না করে ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমার নীতিতে অটল থাকা।
-
সংগঠিত হওয়া: একজন যোগ্য আমীর বা নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাওয়াত ও প্রশিক্ষণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
দ্বিতীয় ধাপ (মাদানী জীবন):
যখন দাওয়াতের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঈমানদার ও চরিত্রবান কর্মী তৈরি হয় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে মানব রচিত ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং ইসলামী রাষ্ট্র (খিলাফত) প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি কোনো মানবীয় প্রচেষ্টা বা শক্তির মাধ্যমে নয়, বরং আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন:
"তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, আল্লাহ তাদের এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খিলাফত (শাসন ক্ষমতা) দান করবেন, যেমনটি তিনি দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের।" (সূরা আন-নূর: ৫৫)
৫. বর্জনীয় ও ভুল পদ্ধতিসমূহ
নবুয়্যতের পদ্ধতির বাইরে অন্য কোনো পন্থায় ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করাকে ভ্রান্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। উল্লেখযোগ্য ভুল পদ্ধতিগুলো হলো:
-
মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ: মানুষের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থাকে স্বীকার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আল্লাহর সার্বভৌমত্বের (রুবুবিয়্যাত) সাথে শিরক করার সমতুল্য। এই পথে আল্লাহর সাহায্য আসে না এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
-
বোমাবাজি ও সশস্ত্র সংগ্রাম: ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে অমুসলিম বা জাহেলী সমাজে সশস্ত্র সংগ্রাম বা বলপ্রয়োগ করা রাসূল (ﷺ)-এর পদ্ধতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি সমাজে আরও বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
-
সামরিক অভ্যুত্থান (Coup): শুধুমাত্র সামরিক শক্তির ওপর ভরসা করে ক্ষমতা দখল করা আল্লাহর সাহায্যের ওপর ভরসা না করার নামান্তর। এটি নববী পদ্ধতি নয় এবং এর মাধ্যমে কল্যাণকর ও স্থায়ী পরিবর্তন আসে না।
ইসলামী জীবনব্যবস্থার স্বপক্ষে উল্লিখিত দলিলসমূহ (কুরআন ও হাদিস)
১. ভূমিকা ও মৌলিক আদর্শ
-
আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা:
اِنَّ الدِّيۡنَ عِنۡدَ اللّٰهِ الۡاِسۡلَامُ
অনুবাদ: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবন বিধান হলো ইসলাম।
(সূরা আলে ইমরান: ১৯)
-
জীবন বিধান হিসেবে ইসলামের পূর্ণতা:
اَلۡيَوۡمَ اَكۡمَلۡتُ لَـكُمۡ دِيۡنَكُمۡ وَاَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِىۡ وَرَضِيۡتُ لَـكُمُ الۡاِسۡلَامَ دِيۡنًا
অনুবাদ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (জীবন বিধানকে) পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ‘ইসলাম’কেই (একমাত্র) দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।
(সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)
২. ঈমানের ঘোষণা ও তার পরিণাম
-
‘রব’ হিসেবে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ঘোষণার পুরস্কার:
اِنَّ الَّذِيۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا تَتَنَزَّلُ عَلَيۡهِمُ الۡمَلٰٓئِكَةُ اَلَّا تَخَافُوۡا وَلَا تَحۡزَنُوۡا وَاَبۡشِرُوۡا بِالۡجَـنَّةِ الَّتِىۡ كُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ
অনুবাদ: নিশ্চয়ই যারা ঘোষণা করে, ‘আল্লাহই আমাদের (একমাত্র) রব’, অতঃপর (সেই ঘোষণার উপর) অবিচল থাকে, তাদের নিকট ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয় (এবং বলে), ‘তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ শোনো যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।
(সূরা ফুসসিলাত: ৩০)
-
‘রব’-এর ওপর অবিচল থাকার ফলে ভয় ও চিন্তামুক্তি:
اِنَّ الَّذِيۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُوۡنَۚ
অনুবাদ: নিশ্চয়ই যারা ঘোষণা করে, ‘আল্লাহই আমাদের (একমাত্র) রব’, অতঃপর (তার ওপর) অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
(সূরা আল-আহকাফ: ১৩)
-
‘রব’-এর সার্বভৌমত্ব ঘোষণার কারণে নির্যাতন ও বহিষ্কার:
الَّذِيۡنَ اُخۡرِجُوۡا مِنۡ دِيَارِهِمۡ بِغَيۡرِ حَقٍّ اِلَّاۤ اَنۡ يَّقُوۡلُوۡا رَبُّنَا اللّٰهُ
অনুবাদ: তাদেরকে অন্যায়ভাবে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু এই কারণে যে, তারা বলতো “আমাদের (একমাত্র) রব আল্লাহ”।
(সূরা আল-হজ্জ: ৪০)
৩. ইসলামের দাওয়াত ও কর্মনীতি
-
সকল মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান:
يٰۤـاَيُّهَا النَّاسُ اعۡبُدُوۡا رَبَّكُمُ الَّذِىۡ خَلَقَکُمۡ وَالَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
অনুবাদ: হে মানুষ সকল! তোমরা সেই ‘রব’-এর ইবাদত (দাসত্ব ও আনুগত্য) করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।
(সূরা আল-বাকারাহ: ২১)
-
সকল নবীর দাওয়াতের মূল ভিত্তি:
لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰى قَوۡمِهٖ فَقَالَ يٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَـكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَيۡرُهٗ
অনুবাদ: অবশ্যই আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। অতঃপর তিনি বলেছিলেন, হে আমার জাতি! আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো (সত্য) ইলাহ নেই।
(সূরা আল-আ’রাফ: ৫৯)
-
রাসূল (ﷺ)-এর দাওয়াতের সারকথা ও সফলতার চাবিকাঠি:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ تُفْلِحُوا
অনুবাদ: ওহে লোকসকল! তোমরা বলো (অঙ্গীকার করো), ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে।
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১৬৬২৭)
৪. নেতৃত্ব, আনুগত্য ও আদর্শ
-
আল্লাহ, রাসূল ও নেতার আনুগত্যের নির্দেশ:
يٰۤـاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِيۡعُوا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَاُولِى الۡاَمۡرِ مِنۡكُمۡ
অনুবাদ: হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসূলের এবং তোমাদের ‘উলীল আমর’-এর (নেতৃবৃন্দের)।
(সূরা আন-নিসা: ৫৯)
-
রাসূল (ﷺ)-এর জীবনেই সর্বোত্তম আদর্শ:
لَقَدۡ كَانَ لَـكُمۡ فِىۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَةٌ حَسَنَةٌ
অনুবাদ: অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর (জীবনের) মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
(সূরা আল-আহযাব: ২১)
-
ঈমানদারদের প্রতিদান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি:
رَضِىَ اللّٰهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُوۡا عَنۡهُ ذٰ لِكَ لِمَنۡ خَشِىَ رَبَّهٗ
অনুবাদ: আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সস্তুষ্ট। এটি তার জন্য, যে তার রবকে ভয় করে।
(সূরা আল-বায়্যিনাহ: ৮)
৫. ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি ও ঐশী প্রতিশ্রুতি
-
শাসনক্ষমতা (খিলাফত) প্রদানের ঐশী প্রতিশ্রুতি:
وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡكُمۡ وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَـنَّهُمۡ فِى الۡاَرۡضِ كَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ
অনুবাদ: তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, আল্লাহ তাদের এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে খিলাফত (রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা) দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে খিলাফত দান করেছিলেন।
(সূরা আন-নূর: ৫৫)
-
নবুয়্যতের পদ্ধতিতে খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভবিষ্যদ্বাণী:
تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ، فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا... ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً... ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ نُبُوَّةٍ
অনুবাদ: তোমাদের মধ্যে নবুওয়াত ততদিন থাকবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। অতঃপর আল্লাহ তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর নবুওয়াতের তরিকায় খিলাফত কায়েম হবে...। অতঃপর দংশনকারী (অত্যাচারী) রাজাদের আগমন ঘটবে...। তারপর আসবে জবরদখলকারী শাসকদের যুগ...। অতঃপর নবুওয়াতের তরিকায় পুনরায় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।
(মুসনাদে আহমাদ: ১৮৪৩০; সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৫)
উপসংহার:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, পৃথিবীতে নবুয়্যত, খিলাফত, রাজতন্ত্র ও স্বৈরাচারী শাসনের পর পুনরায় "নবুয়্যতের পদ্ধতিতে খিলাফত" ফিরে আসবে। সুতরাং সকল প্রকার ভ্রান্ত পথ পরিহার করে একমাত্র রাসূল (ﷺ)-এর দেখানো শান্তিপূর্ণ, ধৈর্যশীল এবং ঈমান ও চরিত্র গঠনের ওপর নির্ভরশীল পদ্ধতিতেই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এর মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য লাভ করা সম্ভব।
What's Your Reaction?
Like
1
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0